798> || নিজের কথা ||-part (1)(2)(3)
798>|| নিজের কথা ||
part--(1)+(2)+(3)
<---©-আদ্যনাথ-->
কেজেন জিজ্ঞাসা করলো---
কিরে তুই ত একটুকুও পাল্টাসনি!
একেবারে আগের মতনই আছিস !
কেনরে, তুই এমনি কেন?
সেই উরু উরু মন---মনে হয় আমাদের জন্য একটুও ভালোবাসা নাই তোর মনে!
---------!!
তোরা, আমাকে নিয়ে এত ভাবিস কেন?
ভাবিস, তোদের মতন হলাম না কেন!
পরিনিরে ভাই, পারিনি---
কোন ভাবেই তেমন কিছু হতে পারিনি।
চাকুরী টাও ছিল ছন্নছাড়ার মতন,
বেডিং কাঁধে নিয়েই ঘুরেছি যখন তখন।
বনে জঙ্গলে, পাহাড়, সমুদ্রে,
খুঁজতে হয়েছে পৃথিবীর গর্ভে।
রত্ন গর্ভা ধরিত্রীর গর্ভ,
যেখানে খুঁজেছি কয়লা,তামা, অভ্র।
সমুদ্রের মাঝে খুঁজেছি তেলর অর্ক,
আর সাথে খুঁজেছি ওই অসহায় মানুষ গুলির বেঁচে থাকার অর্থ।
ঐযে গভীর জঙ্গলে ,মানুষের দল,
দেখেছি তাদের চোখের জল।
নিদারুন তাড়নায়, শিশুদের হাহাকার,
একটু খাবারের জন্য ওরা অসহায়।
যেখানেই গেছি ওদের সাথে মিশেছি,
আমাদের কর্ম যজ্ঞের সাথে দেখেছি।
ওদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি,
ওদের জন্য যতটা পেরেছি চেষ্টা করেছি।
পরে স্থায়ী হবার চিন্তায় ধানবাদে,
এমনই কেটেছে কর্ম আর চিন্তার ফাঁদে।
সময় পাইনি ভাবতে নিজেরটা,
পাহাড়-জঙ্গল-গ্রাম ঘুড়েছি সবটা।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
======================31=====
798>|| নিজের কথা || part -(2)
আজ, ঘরে বসে নানান রোগে ভুগে,
নিজেকে, কেমন যেন দিশেহারা লাগে।
ওই পাহাড়,জঙ্গলের মানুষ গুলি আজও
আছে,
জানি, আত্মসম্মান ও কঠোর পরিশ্রমেই
ওরা বেঁচে আছে।
মৃত্যু সর্বদাই ওদের করেচলেছে তারা,
কখনো প্রকৃতি, কখনো নদীর প্লাবনের ধরা।
ওদের দেবার মতন আজ আমার কিছুই নেই।
এখন শুধু ওদের আদর ও ভালবাসর আশীষ কুড়োই।
প্রত্যন্ত গ্রাম, গঞ্জের খোঁজ কে রাখে,
ভয়ে ত্রাসে রোগীকে দূরে সরিয়ে রাখে।
একে একে আসে প্রিয় জনের মৃত্যুর সংবাদ,
জানি কারন সেই মারণ রোগ আর অবসাদ।
প্রবল বর্ষণে নর্মদা নদীর দুই কুলে
মানুষের ব্যাথা,
ভুলিনি সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা।
প্রকৃতির তান্ডবে ওরা অসহায় গৃহ হারা।
এক মুঠো অন্নের জন্য হাহাকার, ওরা দিশে হারা।
বহুদিন দেখেছি ওদের একতা,
দেখেছি ওদের ধৈর্য আর সততা।
দেখেছি ওদের পেটে নাই অন্ন,
কিন্তু মনে সততা পরি পূর্ন।
ওদের কাছে পৌঁছানো যেমন কঠিন,
ওদের ছেড়ে আসা ছিল ততোধিক কঠিন।
ভুলিনি সেই ফেলেআসা দিন গুলি,
ঐ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মাখা মুখ গুলি।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
========24===============
798>|| নিজের কথা || part-(3)
মনে পড়ে মধ্য প্রদেশে
ছত্তিশগড়ের গভীর জঙ্গলে,
আমলকি,হরীতকী,আর মহুয়ার জঙ্গলে,
পালিয়ে বেঁচেছি ভাল্লুকের তারা খেয়ে।
গাছে গাছে মৌমাছির চাক,
দিন রাত ভাল্লুকের উৎপাত।
পথে একা চলাই ছিল ভীষণ বিপদ,
মহুয়ার গন্ধে স্বাদে মানুষ পশু সকলেই যেন মাতাল।
বর্ষায় নর্মদার দুইকুলের মানুষের
হাহাকার,
অবিরাম বর্ষণ ও বাঁধের জলে প্লাবন।
এমন ভীষণ পরিস্থিতিতে ও দেখেছি,
ছত্তিশগড়ের আদিবাসী দের মুখের হাসি।
অতিথি সেবাই যেন ওদের প্রানের পূজা,
ভুলবোনা ওদের আদর সন্মান আর সরলতা।
প্রকৃতির বিপর্যয়ে দিয়েছি শ্রমদান স্বেচ্ছায়,
দেখেছি মানুষ কত অসহায়।
আজ করোনার দাপটে,
উদাস মনে ঘরে বসে।
পুরনো দিনের কথা মনে পরে,
সেই পাহাড় জঙ্গলেই চলে যাই বারে বারে।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
===========================
Comments
Post a Comment