785>|| তিন জ্ঞানী বানর ||
785>|| তিন জ্ঞানী বানর ||
<---©-আদ্যনাথ-->
আজ না হয় একটু জ্ঞানই দিলাম।
যদিও আমি নিজেই জানি,
একজন অতি নির্বোধ আমি।
তথাপি বলছি কিছু জ্ঞানের কথা,
হয়তো তোমরা মনে পাবে ব্যথা।
আজ বলতে চাই সেই পুরোনো
তিন বানরের কথা------
|| তিন জ্ঞানী বানর ||
আমরা অনেক জানি,
অনেক শুনি,
অনেক কিছুই দেখি,
তথাপি জ্ঞানের চিন্তায়
বানরকে মনে করি।
হয়তো আমাদের পূর্বপুরুষ ভেবে,
নাকি দোষ গুন অন্যের ঘাড়ে দিতে।
হোকনা যেমন তেমন করে
ভাবনা একটু ভাবি
সেই তিন বানর জ্ঞানী--------
‘দ্য থ্রি ওয়াইজ মাংকিজ’
বা তিন জ্ঞানী বানরের ম্যাজিক।
প্রাচীন থেকেই কিছু প্রবাদ আছে জানি,
তাদের চিত্র রূপে তিনটি বানরকে চিনি।
প্রবাদটি এমন-------
“See no evil, hear no evil, speak no evil”.
"খারাপ কিছু দেখো না, খারাপ কিছু শুনো না, খারাপ কিছু বলো না”।
এটাই বানরের চরিত্র,
তারা নিজেদের নামেই খ্যাত।
প্রথমটি--
হাত দিয়ে রেখেছে চোখ ঢেকে,
তাকে সকলে ‘মিজারু’ নামেই জানে।
দ্বিতীয়টি--
হাত দিয়ে কান রেখেছে চেপে,
তাকে সকলে ‘কিকাজারু’ নামেই জানে।
আর তৃতীয়টি--
তার মুখ রেখেছে চেপে,
তাকে ‘আইওয়াজারু’ বলেই ডাকে।
এই তিন বানরে মিলে, পাশাপাশি বসে,
প্রবাদ টির সচিত্র রূপ প্রকাশ করে।
অর্থাৎ মিজারু খারাপ জিনিস দেখছে না, কিকাজারু খারাপ কিছু শুনছে না
আর আইওয়াজারু খারাপ কোনো কথা বলছে না।
যদিও জাপানের বাইরে হয়ত কোথাও
এই তিন বানরকে
মিজারু, মিকাজারু ও মাজারু
নামেও জানে।
মিজারু, কিকাজারু, আইওয়াজারু: রহস্যময় তিন জ্ঞানী বাঁদরের আছে অনেক গল্প-----
বাঁদর তো, বাঁদরামি করাটাই স্বাভাবিক। তবে বাঁদর কি কখনো জ্ঞানী হয়?
সে কথা বলা মুস্কিল, তবে জ্ঞানী না হলেও ‘তিন জ্ঞানী বানর’ নামে প্রচলিত এই বানর গুলোর হয়তো আমরা অনেক কিছুই জানি।
এই তিন বানরে জ্ঞানের জনপ্রিয়তা
এতটাই বাড়ন্ত যে মানুষ ভাস্কর্য হিসেবে এই তিন জ্ঞানীর মূর্তিও রাখেন,
সাজিয়ে ঘরে।
শুধু ভাস্কর্য হিসেবেই নয়, এই তিন বানরের মধ্যে রয়েছে আরো গভীর এক জীবন দর্শন।
যা কিনা কনফুসিয়াসের ‘আচারণের নিয়মাবলী’কে উপস্থাপন করে। কনফুসিয়াসের রচনাবলীর একটি অংশে রয়েছে,
“সঙ্গতির বিপরীতে কোনো কিছু দেখো না, সঙ্গতির বিপরীতে কোনো কিছু শুনো না, সঙ্গতির বিপরীতে কোনো কিছু বলো না এবং সঙ্গতির বিপরীতে যায় এমন কোনো কিছু করো না”
বানরগুলোর নামের উৎপত্তি হিসেবে ধারণা করা হয় বোধহয় অনেকটা মজা করেই বানরগুলোর এমন নাম রাখা হয়েছিল।
বানর তিনটির প্রত্যেকের নামের শেষেই ‘জারু’ শব্দটি রয়েছে যা জাপানী শব্দ ‘সারু’ এর বিবর্তিত রূপ।
জাপানী ভাষায় ‘সারু’ বানরকে নির্দেশ করে। এছাড়াও ‘সারুর’ আরেকটি অর্থ হলো ‘দূর হও’, যা খারাপ কিছুকে উদ্দেশ্য করে বোঝানো হচ্ছে।
একত্রিতভাবে এই তিন বানরকে জাপানী ভাষায় ‘সামবিকি-সারু’ নামে ডাকা হয়, যার অর্থ ‘তিন রহস্যময় বানর’।
কোথাও কোথাও এই তিন বানরের পাশে চতুর্থ আরেকটি বানরকেও দেখা যায়। যার নাম ‘শিজারু’। যে কিনা তার হাত দিয়ে পেট কিংবা নিম্নাঙ্গ ঢেকে রাখে। এই বানরটি “খারাপ কিছু করো না” এই ধারণাটিকে উপস্থাপন করে।
এই দর্শনের বাস্তব রূপ কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ টিভিতে কিংবা মুভিতে যেসব অপরাধ, খুন, হত্যা, রাহাজানি প্রভৃতি দেখছি তা বাস্তবেই মানুষকে এসব অপরাধ করতে অনুপ্রাণিত করছে। শিশু-কিশোরেরা মারামারি, যুদ্ধ, নিষ্ঠুরতাযুক্ত ভিডিও গেম খেলে বিভিন্ন অপরাধ ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে।
ঠিক এ কারণেই তিন জ্ঞানী বানরের প্রথম বানরটি খারাপ কিছু দেখতে নিষেধ করছে। দ্বীতিয় বানরটি খারাপ কিছু শুনতে মানা করছে,
আর তৃতীয় বানরটি আসলে প্রথম দুটি কাজের ফলাফল নির্দেশ করছে। অর্থাৎ আমরা যখন খারাপ কিছু দেখব না, খারাপ কিছু শুনব না তখন স্বাভাবিক ভাবে তার ফল হিসেবে আমরা খারাপ কিছু বলব না। অর্থাৎ আমরা শুদ্ধ থাকতে পারব।
এভাবেই তিন জ্ঞানী বানর আমাদেরকে সকল খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার উপায় জানিয়ে দিচ্ছে।
তাইএই তিন বানরের শিক্ষাকে আমদের নিজেদের জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত। তাহলে হয়তো আমরাও পারব সকল খারাপ কাজ থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও দূরে রাখতে।
========================
(কনফুসিয়াস মূলত একজন নীতিবাদী দার্শনিক ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে নীতিজ্ঞান। এই প্রাচীন চীনা দার্শনিক খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।)
=====<---©-আদ্যনাথ-->======
Comments
Post a Comment