733> || পরিধি ||--- + ---734>|| নিরালম্ব ||
733> || পরিধি ||
<---©--আদ্য নাথ--->
শিশু কাল, স্কুল জীবন সবুজে সবুজে ছিল ভরা
মহাবিদ্যালয় কখনো দুরন্ত কখনো শান্ত,
পিতামাতা,ভাইবোন,সতীর্থ,খেলার সাথি সীমিত,
ভ্রমনের নেশায় বেড়েছে পরিধি মন তৃপ্ত।
হিমালয়ের শৃঙ্গ হতে আরব সাগরের তলে,
কর্ম ক্ষেত্রে হয়ে প্রবুদ্ধ, বিশেষ কর্ম লয়ে।
কত দুর্গম,লোকালয় কত জাতি ধর্ম নির্বিশেষ,
পরিধি বেড়েছে প্রেম ভালোবাসা দিয়ে নিয়ে।
যৌবনে যখন, দিচ্ছে হানা রঙিন মেঘ,
ক্রমে বাড়ন্ত যৌবনের শিহরন তেজ।
দুরন্ত যৌবনের উদ্যাম উন্মত্ত গতি,
পরিধির ছিলনা অন্ত অনিয়ন্ত্রিত গতি।
ক্রমে, মনে, প্রাণে, শরীরে, যৌবনের প্রস্ফুরণ,
দাবানল সম তীব্র, বাঁধ না মানা আলোড়ন।
মনের চাহিদা,নব যৌবনের নানান ছলা কলা,
পরিধির চিন্তা মাত্রেই কল্পনার ছলনা।
যৌবন যেন ছুটে যেতে চায় ভেঙে আগল,
পাগল প্রায় যৌবন মন, চায় বদল।
অকস্মাৎ প্রেয়সীর স্পর্শ স্বপ্নের ঘোর,
উদার যৌবনমন রঙিন বিভোর।
ফুটন্ত গলিত লাভা,অগ্নি উদ্গার সর্বাঙ্গে জ্বালা।
ছিন্ন পরিধি তরল তপ্ত লাভা গিরিখাদ বেয়ে
আগ্নেয় গিরির অন্ত্রের জ্বালা সাগর তলে।
পরিধি প্রসার সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে।
প্রেমে ভাসমান নবযৌবন প্রেয়সীর স্পর্শ লোভে,
আপ্লুত হৃদয় ব্যাকুল ভ্রমর পুষ্প গন্ধ লোভে।
নুপুরের ধ্বনি ঋণী ঝিনি বক্ষ মাঝে
দুরন্ত যৌবনমন প্রসারী দীর্ঘ ডানা,
উরতে চায় দিগন্তে স্বপ্নপুরী অজানা।
তবুও বেড়ে চলে পরিধি নানা কর্মকান্ড।
চাকুরীর অবসর যৌবনের অন্ত এবার,
পরিধি এখন ভাটার টানে একটু নড়বড়।
যেদিন ওরা দিল বিদায় ফুল মালা দিয়ে,
পরিধির কিছু মানুষ গেল একটু পিছিয়ে।
ছিলাম বাগানের মাঝখানে আদরে,
এখন বাগান টাই সরেগেছে দূরে।
সমাজ কল্যানে নুতন পরিধির সংকল্পের চেস্টা।
বুঝিনাই কখন জরা ব্যাধি ঘিরিল মোরে
ক্রমে বার্ধক্য যেন করাঘাত করে ডোরে,
পরিধি এখন খুঁজি রাত জাগা ভোরে।
গাছ টি এতদিন ছিল ফুলে ফলে ভরা,
কত পাখির ছিল আনাগোনা ।
শিশুরা আসত ছুটে আঙ্গিনায় আমার,
কত গান আনন্দ হৃদয়ের বাহার।
পরিধি ছিল মুখর, পাখির কলরবে,
বসন্তে সেই আগুন লাগা পলাশের বনে।
কত পাখি দলে দলে প্রেমে মত্ত পাগল
চাই মিলতে ওদের সাথে ভেঙ্গে পরিধির আগল।
★<----©--●আদ্য নাথ●--->★
18/02/2020::রাত্রি 02:12:15,
==============================
===============================
734>|| নিরালম্ব ||
<---©--আদ্য নাথ--->
আজ একলা সকলে চলে গেছে দূরে,
জানি কেউ আর আসবেনা ফিরে।
যতক্ষন ছিল সবুজ যৌবনের মেলা
পরিধি পূর্ন থাকত মানুষে দুই বেলা।
আজ ডাল পালা হীন শুষ্ক মলিন বৃক্ষে,
ছায়া টুকুও হারিয়ে গেছে সেই কবে।
হওয়ায় দেয়না দোল পাখি বসেনা ডালে,
আজ বোধ হয় শুঁধুই জড় বাগানের কোন।
আছে মাথা আর ধর,শুষ্ক কাষ্ঠ কায়া
মাটি আঁকড়ে ধরে শুধু বেঁচে থাকা।
শূন্য হৃদয়ে আশাহীন চোখে চেয়ে থাকা,
পরিধি আজ সংকীর্ণ, আঙিনা ফাঁকা।
শিশুরাও আজ আর আসেনা কাছে,
শুষ্ক ডালে শকুনগুলি কেবল বসে।
মনের পরিধিও সংকীর্ণ হলো ধীরে।
মন কেবলই নিজের পরিধি খোঁজে।
কর্ম হীন আশা হত মন, শুধুই বেঁচে থাকা,
দৃষ্টির সীমানা সীমাবদ্ধ তবুও চেয়ে থাকা।
পরিধি আজ বৃক্ষ মূলের সীমারেখা,
আজ পৃথিবীটাই আবদ্ধ সংকীর্ণ সীমারেখা।
নিজের পরিধিতে নিজেই আবদ্ধ,
নাই কোনো অভাব তথাপি সিমাবদ্ধ ।
এবার পরিধি বোধ হয় হবে বদ্ধ
হাসপাতালের বিছানায় সীমাবদ্ধ।
★<----©--●আদ্য নাথ●--->★
19/02/2020::রাত্রি 12:20:09,
=============================
Comments
Post a Comment