719>৷৷ ধর্ম বিজয় ৷৷
719>৷৷ ধর্ম বিজয় ৷৷
<--©-আদ্যনাথ-->
পরপর যুদ্ধজয়ে সম্রাট আনন্দিহৃদয়ে,
অতিশয় তুষ্ট সম্রাট রানীদের আপ্যায়নে।
দিকে দিকে জয়ধ্বনি উল্লসিত ভবন,
সম্রাট বসে সিংহাসনে চিন্তিত মনে তখন।
সহসা সম্রাট হস্তী পৃষ্ঠে করিয়া আহরণ,
চলিলেন যুদ্ধঅন্তে যুদ্ধ ক্ষেত্র করিতে দর্শন।
হাজার হাজার মৃত সৈনিক রক্তাক্ত হেথা হোথা,
শকুনেরা সৈনিকের মাংসে মিটাইতেছে ক্ষুধা।
হাজার হাজার নারীর ক্রন্দনে অস্থির প্রাঙ্গন,
শকুনের উল্লাস আর নারীদের ক্রন্দন।
শোণিত ধারা বয়ে চলেছে নদীতে,
নদী যেন রূপ নিয়েছে রক্ত নদীতে।
আকাশে শকুনের কর্কশ বীভৎস চিৎকার
আকাশ আবৃত হাজার শকুনের ডানায়।
কুক্কুর শৃগাল টানিয়া চিড়িতেছে সৈনিক অঙ্গ,
জীবিত পুরুষ আছেন কিছু অতি বৃদ্ধ ও পঙ্গু।
যুদ্ধান্তের এ-হেন বিভীষিকাময় দৃশ্যে
সম্রাট বিষণ্ন, মর্মাহত প্রায়।
ধীরে ধীরে ফিরে চলেছেন রাজ মহালে,
দেখলেন পথে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী চলেছে।
সম্রাট জিজ্ঞাসিলেন সন্ন্যাসীরে এপথে চলার
কারণ,
সন্ন্যাসী বলিলেন, চলেছেন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে
আহত সৈনিকদের সেবার কারণ।
মুহূর্তে অনুতাপের আগুনে দাউ দাউ করে
জ্বলে উঠল সম্রাটের হৃদয়।
অকস্মাৎ সম্রাটের অন্তরে অনুভব করলেন
এক দিব্য প্রজ্ঞার জ্যোতির্ময় আলোক।
তৎক্ষনাৎ সম্রাট শপথ করলেন আর যুদ্ধ নয়, হিংসা নয়, করুণায় আলোয় অহিংসা মন্ত্রে
ভরিয়ে দিতে হবে সমগ্র জগৎ।
তখনি তিনি আদেশ দিলেন অস্ত্র দিয়ে নয়,
প্রেম করুণার হৃদয় দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে
মানুষের হৃদয় করব জয় ।
সায়াহ্নে সম্রাট ফিরলেন রাজ দরবারে,
সম্রাটের মুখ মন্ডলে খানিক চিন্তার ছায়া।
উৎসবে মুখরিত মহল আলোর রোশনিতে,
তথাপি যেন শান্তি নাই সম্রাটের মনে।
অস্থির চিত্তে সম্রাট চলেছেন অরণ্যের পথে,
মন্ত্রি ও কিছু সৈনিক লয়ে সাথে।
স্বচক্ষে দেখতে চান,নিজ রাজ্যে
অরণ্য ও জনগণের জীবন।
সম্রাট দেখলেন এক বট বৃক্ষের নিচে,
সৌম্য দর্শন এক সাধু বসে শান্ত মনে।
সম্রাট উপস্থিত হন সাধুর সম্মুখে,
সাধু ও সম্রাট মিলিলেন দৃষ্টি বিনিময়ে।
উভয়ে বাকরুদ্ধ কিছু সময় নিরব দর্শনে,
সম্রাট অতি তুষ্ট ঈপ্সিত পথের সন্ধান পেয়ে।
সম্রাট সহসা মস্তক ঠেকাইলেন সাধুর চরণে,
প্রশান্ত হাস্য মুখে সাধু আশীস দিলেন।
মন্ত্রি ও সৈনিক গণ বিচলিত মনে,
সম্রাটের এ-হেন আচরণের কারণে।
সকলেই চিন্তিত,মনে মনে গণে,
এইরুপ আচরণের কারণ খুজে চলে।
সম্রাটের শির নত কেন সাধুর চরণে,
মন্ত্রি জীজ্ঞাসিলেন কৌতুহলের কারণে।।
সম্রাট বাক রুদ্ধ হরসিত মনে,
এক প্রশান্তির ঝলক উদ্ভাসিত
সম্রাটের মুখ মন্ডলে।
প্রাসাদে ফিরিয়া মন্ত্রিরে বলেন,
এই লও চারটি করোটি পূর্ণ থলি।
নিজ গিয়ে বাজারে বিক্রি করে এস,
তিনটি জন্তুর ও,একটি মানুষের।
হাতি, ঘোড়া ও কুকুরের করোটি,
আর শেষটিতে আছে মানুষের করোটি।
যেকোন মূল্যে বিক্রি কর সবে,
ফিরিয়ে আনলে দণ্ডীত হইবে।
মন্ত্রি বাজারে অনাআসে বিকিলেন
তিনটি পশুর করোটি,
কিন্তু মানুষের করোটি বিক্রিয়ে হইলেন ব্যর্থ।
মন্ত্রি সম্রাটের সভায় কহিলেন বিস্তারে,
প্রভূত সমস্যা মানুষের করোটি বিক্রয়ে।
সম্রাটের আদেশ, পুনরায় কর চেস্টা,
কোন মতেই ফেরত আনা চলবে না।
বিক্রয় নাহলে বিনা মূল্যে দিয়ে এস,
মনে রেখো ফেরত আনা চলবেনা।
মন্ত্রি পুনরায় করিলেন আপ্রাণ চেষ্টা,
তথাপি ব্যর্থ মানুষের মস্তক বিক্রয়ে।
বিনা মূল্যেও কেউ চায়না রাখিতে,
সকলেই ভিত সন্ত্রস্ত মানুষের মস্তক রাখিতে।
কোতোয়াল দিবে সাজা মানুষ খুনের দায়ে,
সাজা দিয়া নিশ্চয় ফাঁসিতে ঝুলাইবে।
অগত্যা মন্ত্রি ফিরিলেন ব্যার্থ মনরথে,
সায়াহ্নে মানুষের মস্তক লয়ে সম্রাটের সম্মুখে।
এতক্ষনে সম্রাট বলিলেন মন্ত্রীকে
কিছু আছে কি বাকি অবশিষ্ট জানিতে।
বুঝিলেতো মন্ত্রি, মনুষ্য মস্তকের কেমন গতি,
পৃথিবীতে মনুষ্য মস্তক মুল্য হীন অতি।
অতএব মূল্যহীন বস্তু রইল কোথায়,
তাতে কার কী আসে জায়।
আমার মস্তক, তোমার মস্তক
নিতান্ত কোন মজুরের মস্তক,
খুজলেও পাবেনা ফারাক কোথায়।
তোমার আমার মস্তক কিম্বা শরীর
সকলি মুল্য হিন,
একদিন আগুনে অথবা কবরে হইবে লীন।
কর্ম ই শ্রেষ্ঠ রেখে যাও যদি কিছু নজির,
নাম সুনাম, সকলিই কর্মে হয় স্থির।
সুকর্মেই সকলে উপকৃত হয়,
ভালোবাসা দিয়ে সকলের মন কর জয়।
মন্ত্রি সহ সকলের ভ্রান্তি হইলে দুর।
সম্রাটের জয়ধ্বনিতে সভা হইল মুখর।
সম্রাটের এ-হেন আচরনে বিচলিত সকলে,
সম্রাট তো উন্মত্ত দানব-চণ্ডাল সমান।
সহসা তিনি কেন বলেন ভালোবাসার কথা,
সভাসদ গণ ভাবিয়া অস্থির।
রানী সকলে কু-চিন্তা মনে মনে গনে,
যুদ্ধ ক্লান্ত সম্রাটের মতিভ্রম বুঝি ঘটে।
সম্রাটের বিশ্রামের কর আয়োজন সত্তর,
নহিলে ঘটিতে পারে সমূহ বিপদ।
সম্রাট পরিশ্রান্ত তাই বিশ্রাম অতি প্রয়োজন,
চণ্ডাল সমান সম্রাট বলিছেন প্রেমের কথন।
এই সম্রাটকে সকলে সম্রাট অশোক জানি,
তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রশারক শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী।
যিনি ছিলেন উন্মত্ত দানব-চণ্ডাশোক
এবার হলেন শান্তি আর অহিংসার পূজারি
প্রিয়দর্শী অশোক।
একদিন সকালে সম্রাট বেরিয়ে পথে,
সংসার ছেড়ে মুক্তির আশায় একলা পথে।
মনের ইচ্ছা পূরণে নিয়েছিলেন দীক্ষা
বৌদ্ধ সন্ন্যাসী গিরিদত্তের কাছে।
শুরু হল বৌদ্ধসঙ্গে ভিক্ষুর শিক্ষা।
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করেন নি তিনি,
ভালোবাসার মন্ত্রে বিশ্ব করেছিলেন জয়।
শিখিয়েছেন জীবন সত্যের উর্ধ ধারা
জয় তো যুদ্ধের জয় নয়,
জয় হোল নিজের হিংসা ক্রোধ কে করো জয়।
আর যদি বিশেষ কিছু করতে চাও জয়,
তাহলে করো জীবনের সত্য
জন্ম,মৃত্যু,বার্ধ্যক্য,জরাকে করো জয়।
একদিন যিনি ছিলেন উন্মত্ত দানব-চণ্ডাশোক,
এবার হলেন শান্তি আর অহিংসার পূজারি,
প্রিয়দর্শী অশোক।
বৌদ্ধ ধর্মের প্রেম করুণায় পূর্ণ হয়ে উঠল তার হৃদয়।
চণ্ডাশোক রূপান্তরিত হলেন ধর্মাশোকে ।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে তিনিই ছিলেন
প্রথম সম্রাট যার আদেশে সমস্ত রাজ্যে
পশু হত্যা পশু বলি হয়েছিল নিষিদ্ধ।
পশু হত্যা ও বৃক্ষ ধ্বংস ছিল দন্ডনীয় অপরাধ।
এবং পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম
পশুচিকিৎসালয় করেছিলেন স্থাপন।
সর্বজীবে প্রেমের এমন দৃষ্টান্ত জগতে বিরল।
তিনি বলেছিলেন----
নিজের ধর্মের প্রশংসা কর নিশ্চয়
কিন্তু অন্যের ধর্মের নিন্দা উচিত নয়।
সকল ধর্মের ভালো ও সারবস্তু কে জানো
মূল সত্যকে গ্রহণ কর।
পরস্পর সকল ধর্মের মানুষকে ভালো বাস।
অর্থ করি ধন সম্পত্তি কোন দানই দান নয়,
সর্বশ্রেষ্ঠ দান ধর্মদান।
একমাত্র ধর্মের পবিত্র আলোতেই
মনুষ্য হৃদয় হতে পারে আলোকিত।
তাই যদি কিছু দিতে চাও দান ,
দিও তারে ধর্মদান।
এমনি ছিল সম্রাট অশোকের ধর্ম বিজয়।
এমন ভাবনায় সম্রাট অশোক,
বৌদ্ধ সন্ন্যাসী গিরিদত্তের কাছে দীক্ষা নিয়ে
বৌদ্ধসঙ্গে ভিক্ষু হয়ে সংসার ত্যাগী হয়েছিলেন।
<--©-আদ্যনাথ-->
【--anrc--03/11/2019--】
【=রাত্রি:01:08:22=】 【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】
==============159 L============
Comments
Post a Comment