716>|| তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা |


 716>|| তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা ||
                   <-----©-আদ্যনাথ--->

আমরা চার ভুত চললাম তারাপীঠ।
আমি বাংলার ভুত
সাথে নিয়েছি তিন বিহারী ভুত।
এক ডাক্তার ভুত,
এক উকিল ভুত,
এক পুলিশ ভুত।
এই আমরা চার ভুত মিলে,
চললাম তারাপীঠ মহা শ্মশানে,
তারা রাত্রির একটু ফল কুড়াইতে।
তারা মায়ের একটু স্নেহস্পর্শ পাইতে।

ভাদ্র মাসের অমাবস্যা
কৌশিকী অমাবস্যা অথবা
তারা রাত্রি যাই বলো তোমরা।
এই অমাবস্যা তে এবারে
তারাপীঠে ভিড়ের চাপ থাকবে,
তবুও আমাদের যেতেই হবে।
এই কৌশিকী অমাবস্যাতে।
যদি কিছু পারি তারা রাত্রির
সুফল কুড়িয়ে নিতে।

যেটুকু জানি তন্ত্র সাধনার জন্য,
খুবই গুরুত্বপুর্ণ এই অমাবস্যা রাত্রি।
হিন্দু শাস্ত্রে ও বৌদ্ধ শাস্ত্রে বর্ণিত আছে,
এই অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব আছে।
শাস্ত্র মতে তন্ত্র সাধনার প্রয়োজনে
এই অমাবস্যা খুবই গুরুত্বপুর্ণ বটে।

সত্যি বলতে এই কৌশিকী অমাবস্যা
অন্য দিনের থেকে একটু আলাদা।
তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে এই তিথিতে হয়
অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা।
কোন সাধক খালিহাত ফেরেন না।

ফল মেলে আশাতীত নিশ্চিত।
বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে অনের প্রশংসিত রাত্রি,
কুন্ডলিনী চক্র জয়ের একমাত্র রাত্রি।
আর বিশেষ কি বলবো,
এই রাত্রেই ঘটে সেই বিরল মুহূর্ত
যখন প্রকৃতি কয়েক মুহূর্তের তরে
স্বর্গ আর নরকের দুই দুয়ার,
একসাথে উম্মুক্ত করে।
বহু আকাঙ্খিত এহেন  মুহূর্তের লোভে
সাধক মোহিত হয়ে তারাপীঠে জোটে,
মায়ের স্নেহ লাভের লোভে,
বহু সাধক নিজ স্বার্থের লোভে,
ছুটে আসে " তারা মা "এর দুয়ারে।
সাধক "মা" এর আশীষ নিয়ে,
একান্ত নিজের সাধনার বলে,
ইচ্ছা মতো ধনাত্মক বা ঋণাত্মক শক্তি
নিজের সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করে,
এবং নিশ্চিত সিদ্ধি লাভের সংযোগ ঘটে ৷
একান্তই সৎ চিন্তা ও সৎ ভাবনা যদি থাকে।

আমাদের আজকের প্রচেষ্টা ও ইচ্ছা,
কিছু অপারক দরিদ্র পঙ্গু মানুষের
রোগ মুক্তির উপায় খুঁজতে আর সাথে
নিজেদের সাধন বল
একটু ঝালিয়ে নিতে।
তারা " মা " এর একটু আশীর্বাদ নিতে।
আমরা চারজন পৌঁছলাম তারাপীঠে।

মা তারা দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা,
মা কালীর মতই মা তারার রুদ্র মূর্তি।
মা তারার নানান রূপ -------
নীল সরস্বতী, উগ্র তারা, কুরুকুল্লা,
খদির বাহিনী,মহা শ্রী তারা,বশ্যতারা,
ষড়ভুজ তারা ,সিতা তারা,মহা মায়া,
বিজয় বাহিনী তারা।

মা আছেন বীরভূম জেলার তারাপীঠে।
তারা মায়ের পীঠ দ্বারকা নদীর তীরে
মহা শ্মশানে।
রামপুর হাট স্টেশন থেকে
ছয় কিলোমিটার দূরে।

তারা মা
প্রত্যালীঢ়পদা----অর্থাৎ
শব বক্ষে দক্ষিণ পদ স্থাপিতা।
মা ভয়ংকরী, মুন্ডমালা ভূষিতা, খর্বা,
লম্বোদরী, ভীষণা, নবযৌবনা,
কটিতে ব্যাঘ্র চর্মাবৃতা, পঞ্চ মুদ্রা শোভিতা,
চতুর্ভুজা, লোল জিহ্বা, মহা ভীমা, বরদা,
খড়্গ,কতারি দক্ষিণ হস্তে ধৃতা।
বাম হস্ত দ্বয়ে কপাল ও নীল পদ্ম,
পিঙ্গলবর্ন, একজটা ধারিনী,
ললাটে অক্ষেভ্য, প্রভাত সূর্যের মতো
গোলাকার তিন নয়ন শোভা,
প্রজ্জ্বলিত চিতা মধ্যে অবস্থিত,
ভীষণ দন্তা, করাল বদনা,হাস্যমুখী
নিজের আবেশে উদ্ভাসিতা,
প্রলয় কালে সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপ্ত
জল মধ্যে শ্বেত পদ্মের উপরে অবস্থিতা।
" মা " নীল সরস্বতী,জয় মা তারা।
এই অতি সংক্ষেপে আজ আমি,
এক ভুত আদ্য নাথ,
কৌশিকী অমাবস্যার দিনে,
যথা সাধ্য করিলাম,
তারা মায়ের একটু সামান্য বর্ণন।

   <-----©-আদ্যনাথ--->
     【--anrc--28/08/2019--】
     【=সকাল:06:40:30=】
 【ট্রেনে তারাপীঠ যাত্রা কালে 】
=========================




'

Comments

Popular posts from this blog

797> ভাগ্য লিপি ++ভালোবাসর কোন বিকল্প নাই, ।

724>||ভালোবাসা নয়তো অশ্লীল ||

721>|| एक कहानी सुनो ||