704>।। মাতা নর্মদা ।।
704>।। মাতা নর্মদা ।।
<---©-আদ্যনাথ--->
হে মাতা নর্মদে,
শ্বাপদসংকুল গভীর জঙ্গলে,
পাহাড়ের চড়াই , উপেক্ষা করে,
নিতান্ত নির্বোধ অর্বাচীন মনে,
বারংবার ছুটে গেছি তোমার দুয়ারে,
অস্থির মনে তোমার শ্রীপাদপদ্ম দর্শনে।
কোনদিন ফিরিনি শূন্য হৃদয়ে কুন্ঠিত মনে,
সদা তৃপ্ত হয়েছে হৃদয় আমার তোমার দর্শনে।
হে-'মাতা ',আজ অশান্ত অস্থির মন আবার,
তাইত ব্যাকুল হৃদয়ে চলেছি তোমার দুয়ার।-------------10
ভয়ঙ্কর দুর্গম পথ ,পদে পদে বিপদ ভীষণ,
পথ চলতে তোমার 'রেবা' নাম জপ সারাক্ষণ।
আনন্দময়ী তুমি, রেবা নামেতেই তুষ্ট অতি,
সকল বিঘ্ন দূরকরে করুণা করেছো আমার প্রতি।
রেবা নামের মাহত্ম গুণে বাঁধা বিপদ গেছে দূরে,
রেবা,রেবা,রেবা,-রেবা নামেই আছো হৃদয় ভরে।
কোনোদিন ,কোন বাঁধাই থামাতে পারেনি আমায় ,
নিৰ্ভয়ে পৌঁছেছি তোমার কৃপায়।--------------------18
তোমাকে করেছি দর্শন মনের আশ মেটানোর ছলে,
ব্যাকুল মন, চায় আবার পৌঁছতে তোমার আম্রকুটে।
কিন্তু আজ আর উপায় কোথায়,
বার্ধক্য ক্রমে ঘিরিছে আমায়।
তাই ভাবনা পৌঁছবো কেমনে তোমার কাননে ,
তোমার পথ তুমি রেখেছো কঠিনে ঘিড়ে।
শুনেছি আজকাল,
হয়েছে সহজ,কিছু পথ, পৌঁছতে তোমার দুয়ারে,
সৃষ্টি রক্ষার তরে, তুমি বিলাইছো আশীষ অকাতরে।
পাপী তাপি যত আসে তোমার দুয়ারে,
সকলে তুষ্ট তোমার আশীষের বলে।
তোমার দুয়ার হতে কেউ ফেরেনা খালি হাত ,
সকলের তরে বাড়াও তোমার বরাভয় হাত।-------------31
কিন্তু সেদিন, আজ থেকে 46 বৎসর আগে,
তোমার দুয়ার পথ রেখেছিলে কঠিনে ঢেকে।
তখন চলছিল আমার জীবনের লড়াই ,
সে লড়াই ছিল বেঁচে থাকার জন্য লড়াই।
জীবন যুদ্ধে প্রতিকূলে টিকে থাকার লড়াই,
একান্ত প্রয়োজন টুকু জোগাড়ের লড়াই।
কিছু পথ খুঁজে পাবার জন্য লড়াই,
সংসার টুকু টিকিয়ে রাখার লড়াই।
সমাজের বিরুদ্ধে কিছু লড়াই,
লোকে কি বলবে তার জন্য লড়াই।
শিক্ষা,কর্ম, ও ধর্ম এই তিনের শ্রেষ্ঠতার লড়াই,
ভাবনা হতো, হেরে যাওয়ার থেকে পাবনা রেহাই।
তাই, অস্থির চিত্তে ভাবনার আবেগে পাগল প্রায়,
পথ হারিয়ে লড়াইয়ের মাঝে পালিয়ে বেড়াই।
নিরালায় শান্ত পরিবেশ খুঁজে বেড়াই ,
তখনি মনে মনে তোমাকে দেখতে পাই।
গভীর জঙ্গল আর পাহাড় ঘেরা তোমার ঠাঁই ,
তোমার দুয়ারে যাবার সহজ উপায় নাই।
তবুও নির্ভয়ে পৌঁছে ছিলাম তোমার দুয়ারে ,
তোমার উৎসস্থলে তোমার আনন্দ কাননে ।----------51
কপিল ধারায় দেখেছি তোমার ভয়ঙ্কর রূপ,
সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংসের অতি বিক্রাল রূপ।
তোমার নৃত্য দেখেছি ওই স্রোতের মাঝে,
সু উচ্ছ হতে ঝাপদিচ্ছ গভীরের মাঝে।
তোমার শ্বেত শুভ্র ফেনিল জল ধারা,
জলপ্রপাত রূপে খ্যাত কপিলধারা।
তোমার শ্বেত শুভ্র ফেনিল জলধারার ধ্বনি,
শুনেছি পাহাড়ে পাহাড়ে তার প্রতিধ্বনি।
ভাবলেও মনে শিহরণ জাগে,
শংকর তনয়া তুমি শঙ্করের সাজে।
করিছ প্রলয় নৃত্য আপন মনে সৃষ্টির তরে,
ওপারে পিতা শংকর দেখিছে তোমারে।
পিতার সদৃশ জটাজুট ধারিণী,
রক্তবর্ণ ব্যাঘ্র চর্ম বসনে তুমি ভয়ঙ্করী।
কর তলে ত্রিশূল ডমুরু ধারিনি,
আনন্ত্য নৃত্যে মগ্ন জগৎ তারিণী ।
ভোলানাথ দেখিতেছেন তোমার নৃত্যের তাল লয়,
তোমার অপর পারে বসিয়া নিজ আলয়।
কি দারুন শোভায় সুশোভিত দিগন্ত।
ক্ষণিক দর্শনেই মন প্রাণ হয় শান্ত।---------------71
প্রভাতে শ্বেতশুভ্র বসনে নিজ কাননে একনিষ্ঠ মনে,
শিব পূজার তরে, নিজ করে,নিবিষ্ট তুমি ফুল চয়নে।
অপরূপ রূপে তুমি ষোড়শী কুমারীর বেশে,
পিন উন্নত সুডোল পয়োধর উন্মুক্ত কেশে।
সুউচ্চ নীতম্ব,সূক্ষ্ম কটিবেষ্টনী,
যেন বিশ্বকর্মা নির্মিত স্বর্ণ কলাপিনী।
অপরূপ রূপ লাবণ্যে আলোকিত দিগন্ত,
শংকর তনয়া তুমি সদা হাস্য রত প্রশান্ত।
মালিনীর বেশে সুশোভিত ফুলমালা গলে ,
সে রূপে মোহিত দেবগন লালায়িত মনে।
তোমার রূপ যৌবনে উদ্ভাসিত দিগন্ত ,
কামুক দেবতাগণ অতিশয় বিভ্রান্ত।
প্রভাতে তোমার সঙ্গ লাভের তরে,
তোমার বাগিচায় হাজির দেব গণ সকলে।
কিন্তু বিধির বিধানে অসাধ্য তোমাকে পাওয়া,
তুমি শিবের অতি আদরের, শিব তনয়া।
তোমারে রাখিতে খেয়াল সদাই ব্যাস্ত পিতা,
শিবলোক ছাড়ি তোমার উৎসকূলে বসেন সদা। -------89
প্রত্যুষে তোমার বাগিচায় তুমি মঙ্গল বরদে,
সৃষ্টির কল্যাণে তুমি মর্তে নর্মদা শুভদে।
মুনি ঋষি গণ জানেন এহেন সত্য,
মাই কি বাগিচাতে সত্য জ্ঞান সহজ লভ্য।
সৃষ্টি উজাড় করে দিয়েছে ফল ফুলের সাজি,
তোমার নিত্য ভ্রমণের বাগিচাখানি।
যার শোভায় মুগ্ধ পৃথিবী বাসি,
সেই তোমার 'মাই কি বাগিচা ' বলে জানি।
তোমার স্নেহ স্পর্ষে আপ্লূত মুগ্ধ হৃদয় আমার,
তোমার আশীষ ভিন্ন চাহিনা কিছু আর।
মুনি গনের অতি কাম্য লভিতে সত্য জ্ঞান,
প্রত্যুষে তোমার বাগিচায় করেন জপ ধ্যান।
হে মা নর্মদে তোমারে জানাই প্রণাম
এই অধমের রাখিও মনে দিও সত্য জ্ঞান।
মম নতিরেষা তব পদ কমল যুগলে,
জানি তুমি আছো আমার হৃদকমলে।---------106
<-----©-আদ্যনাথ--->
【--anrc-23/08,2019--】
【=রাত্রি:01:06:22=】
【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
====== ====== ====== =======
Comments
Post a Comment